web analytics
ফোনের-RAM-বেশি-হলেই-কি-পারফরম্যান্স-ভালো-হয়
টেকনোলজি

ফোনের RAM বেশি হলেই কি পারফরম্যান্স ভালো হয়? আসল সত্যিটা জেনে নিন

Spread the love

নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় আমরা অনেকেই একটি সাধারণ ভুল ধারণা পোষণ করি— “ফোনে যত বেশি র‍্যাম (RAM), ফোন তত বেশি ফাস্ট।” স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোও তাদের বিজ্ঞাপনে ১২ জিবি বা ১৬ জিবি র‍্যামের কথা বলে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফোনের RAM বেশি হলেই কি সত্যিই পারফরম্যান্স ভালো হয়?

RAM (র‍্যাম) আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

RAM এর পূর্ণরূপ হলো Random Access Memory। এটি মূলত আপনার ফোনের একটি অস্থায়ী মেমরি। আপনি যখন ফোনে কোনো অ্যাপ ওপেন করেন, তখন সেটি স্টোরেজ (ROM) থেকে RAM-এ এসে জমা হয়। এর ফলে অ্যাপটি দ্রুত কাজ করতে পারে।

সহজ কথায়, RAM হলো একটি টেবিলের মতো। আপনার কাজের টেবিল যত বড় হবে, আপনি তত বেশি খাতা-কলম একসাথে ছড়িয়ে কাজ করতে পারবেন। একইভাবে, ফোনের RAM যত বেশি হবে, আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডে তত বেশি অ্যাপ একসাথে চালু রাখতে পারবেন।

RAM বেশি হলেই কি ফোন ফাস্ট হয়?

এক কথায় উত্তর হলো— না, শুধুমাত্র RAM বেশি হলেই ফোন ফাস্ট হয় না।

একটি ফোনের পারফরম্যান্স শুধুমাত্র RAM-এর ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি দায়ী, তা হলো ফোনের প্রসেসর (Processor) বা চিপসেট। প্রসেসর হলো ফোনের মস্তিষ্ক। আপনার ফোনের প্রসেসর যদি দুর্বল হয় এবং RAM যদি ১৬ জিবিও হয়, তবুও আপনার ফোন ফাস্ট কাজ করবে না। কারণ, বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রসেস করার ক্ষমতা প্রসেসরের থাকতে হবে।

প্রসেসর বনাম র‍্যাম: কোনটি বেশি জরুরি?

  • প্রসেসরের কাজ: অ্যাপ কত দ্রুত ওপেন হবে, গেম খেলার সময় গ্রাফিক্স কেমন হবে এবং ফোন হ্যাং করবে কি না— এগুলোর মূল দায়িত্ব প্রসেসরের (যেমন- Snapdragon, MediaTek, Apple Bionic)।
  • RAM-এর কাজ: একসাথে কতগুলো অ্যাপ আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু রাখতে পারবেন এবং এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে সুইচ করার সময় ফোন রিলোড নেবে কি না— সেটা নির্ভর করে RAM-এর ওপর।

ধরে নিন, একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন (প্রসেসর) যুক্ত গাড়িতে আপনি ৪ জন (RAM) যাত্রী বসাতে পারেন। গাড়িটি খুব দ্রুত চলবে। কিন্তু আপনি যদি ইঞ্জিন পরিবর্তন না করে শুধু সিট বাড়িয়ে ১৬ জন বসার ব্যবস্থা করেন, তবে কি গাড়িটি আগের চেয়ে দ্রুত চলবে? বরং আরো ধীরগতির হয়ে যাবে! স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটে।

স্টোরেজের ধরন (UFS vs eMMC) এবং পারফরম্যান্স

RAM এবং প্রসেসরের পাশাপাশি ফোনের পারফরম্যান্স অনেকাংশে নির্ভর করে স্টোরেজের স্পিডের ওপর। বর্তমানে UFS (Universal Flash Storage) প্রযুক্তির স্টোরেজ অনেক বেশি ফাস্ট। আপনার ফোনে যদি UFS 3.1 বা 4.0 স্টোরেজ থাকে, তবে ৪ জিবি বা ৬ জিবি RAM থাকা সত্ত্বেও ফোনটি দুর্দান্ত পারফর্ম করবে। অন্যদিকে, পুরনো eMMC স্টোরেজ যুক্ত ফোনে ৮ জিবি RAM থাকলেও তা ধীরগতির হতে পারে।

আপনার জন্য কতটুকু RAM প্রয়োজন?

  • সাধারণ ব্যবহারকারী (৪ – ৬ জিবি RAM): আপনি যদি ফোনে শুধুমাত্র কল করা, ইউটিউব দেখা, ফেসবুক চালানো এবং সাধারণ ছবি তোলার কাজ করেন, তবে আপনার জন্য ৪ থেকে ৬ জিবি RAM-ই যথেষ্ট।
  • মাঝারি বা মিডিয়াম ইউজার (৬ – ৮ জিবি RAM): আপনি যদি টুকটাক গেমিং করেন, সোশ্যাল মিডিয়া চালান এবং একসাথে বেশ কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহার করেন, তবে ৬ থেকে ৮ জিবি RAM আপনার জন্য একদম পারফেক্ট।
  • হেভি গেমার বা প্রো ইউজার (৮ – ১২ জিবি RAM): যারা ফোনে ভারী গেম (যেমন- PUBG, Call of Duty) খেলেন, ভিডিও এডিটিং করেন বা প্রচুর মাল্টিটাস্কিং করেন, তাদের জন্য ৮ জিবি বা তার বেশি RAM প্রয়োজন।

১২ জিবির বেশি (যেমন ১৬ জিবি বা ২৪ জিবি) RAM বর্তমানে স্মার্টফোনের জন্য অনেকটাই অতিরিক্ত (Overkill) এবং এটি দৈনন্দিন ব্যবহারে খুব একটা পার্থক্য তৈরি করে না।

উপসংহার

বিজ্ঞাপনের চমকে বিভ্রান্ত হয়ে শুধুমাত্র বেশি RAM দেখে ফোন কেনা বোকামি। একটি স্মার্টফোন তখনই সেরা পারফরম্যান্স দেবে, যখন এর প্রসেসর, RAM, স্টোরেজ টাইপ এবং সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন— সবকিছু একসাথে ব্যালেন্সড অবস্থায় থাকবে। তাই পরবর্তী সময়ে ফোন কেনার ক্ষেত্রে RAM-এর চেয়ে প্রসেসরের ক্ষমতার দিকে বেশি মনোযোগ দিন।

আশা করি, ফোনের RAM এবং পারফরম্যান্স নিয়ে আপনাদের সব কনফিউশন দূর হয়েছে। স্মার্টফোন সম্পর্কিত এমন আরো তথ্যবহুল আর্টিকেল পেতে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *